কিডনী কি ও কিছু মৌলিক তথ্যঃ

অধ্যাপক ডা. মো. নিজামউদ্দিন চৌধুরী, বিভাগীয় প্রধান ০১:০২ মিঃ, অক্টোবর ৯, ২০১৮ Views : 3936

কিডনী আমাদের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সাধারনত আমাদের শরীরে দুইটি কিডনী থাকে। পেটের পিছনে কোমর থেকে কিছুটা উপরে ও মেরুদন্ডের দুই পাশে এগুলোর অবস্থান। তবে জন্মগত ত্রুটির কারনে কারো কারো একটি কিডনীও থাকতে পারে এবং এটি নিয়ে বাকী জীবন সুস্থ স্বাভাবিক থাকা সম্ভব, যদিও অনেক বৎসর পরে কারো কারো প্রস্রাবে প্রোটিন/অ্যালবুমিন নির্গত হতে পারে এবং কারো কারো উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। তাই এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। জন্মগত ত্রুটির কারনে কারো কারো কিডনীর অবস্থান ও আকৃতিও ভিন্ন হতে পারে , এতেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই যদিও এদের কারো কারো কোমরে বা তলপেটে ব্যথা হওয়া, প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া বা ইনফেকশন হওয়া বা কিডনীতে পাথর হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে বিশেষ ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। আরেকটি তথ্য হচ্ছে, কিডনীর স্বাভাবিক সাইজ ৯-১১ সে.মি. যদিও বাম কিডনী ১-১.৫ সে.মি.বড় থাকে। এখানে জেনে রাখা ভালো যে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোমর ব্যথা কিডনীর জন্য হয় না বরং কোমরের হাড় গোড়, মাংশপেশী, লিগামেণ্ট ও নার্ভ সহ অন্যান্য মেকানিক্যাল কারনেই ব্যথা হয়ে থাকে।

কিডনীর কাজ কি :

প্রতিটি কিডনীতে প্রায় ১০ লক্ষ ছাকনি থাকে যা প্রতিনিয়ত প্রায় ১৭০-২০০ লিটার রক্ত পরিশোধন করে প্রস্রাব তৈরির মাধ্যমে শরীরে রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় তৈরী বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয় এবং একইভাবে শরীরের তরল ও খনিজ পদার্থের সমতা বজায় আনে। তাছাড়া কিডনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন হরমোনও তৈরী করে যেমনঃ হাড় মজবুত রাখার জন্য ভিটামিন ডি,রক্ত তৈরীর জন্য ইরাইথ্রোপয়েটিন ও রক্তচাপ বজায় রাখার হরমোন রেনিন। কিডনী কিছু কিছু কেমিক্যাল পদার্থও নিষ্ক্রিয় করে থাকে তাই কিডনীকে বিষ্ময়কর বা এ্যামেজিং কিডনী বলা হয়।

কিডনীর রোগঃ

কিডনীর রোগগুলোকে আমরা সাধারনতঃ দুই ভাগে ভাগ করে থাকি যেমন নেফ্রোলজি বিষয়ক বা মেডিক্যাল ডিজিজ যেমন নেফ্রাইটিস,কিডনী ফেইলিউর, কিডনী/ইউরিন ইনফেকশন ইত্যাদি। অন্যদিকে সার্জিক্যাল বা ইউরোলজি বিষয়ক রোগ যেমন প্রস্টেট এর রোগ, কিডনীর পাথুরে রোগ, কিডনীর টিউমার, ইউরিনারী ট্র্যাক্ট এ ব্লক ইত্যাদি।

কিডনী রোগের লক্ষণঃ

কিডনীর রোগে নানা ধরনের লক্ষণ দেখা যায় , যার মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি প্রধানত দেখা যায়:

● সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে চোখ ফুলে যাওয়া।

● মুখ এবং পা ফুলে যাওয়া।

● ক্ষুধামন্দা , বমি ভাব , দুর্বল ভাব।

● বার বার প্রস্রাবের বেগ , বিশেষ করে রাত্রে।

● কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ

● শারীরিক দুর্বল ভাব , ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।

● অল্প হাঁটার পরে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা তাড়াতাড়ি ক্লান্তি অনুভব করা।

● প্রস্রাবে বেশি ফেনা হলে: প্রস্রাবে অ্যালবুমিন নামক প্রোটিনের উপস্থিতির জন্যই এমন হয়। কিডনির ফিল্টার ড্যামেজ হয়ে গেলে প্রোটিন লিক হয়ে প্রস্রাবের সাথে বাহির হয় বলে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়। এটি কিডনী আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ।

● ৬ বছর বয়সের পরেও রাত্রে বিছানায় প্রস্রাব করা। প্রস্রাব কম আসা ।

● প্রস্রাব করার সময় জ্বালা অনুভব করা এবং প্রস্রাবে রক্ত বা পুঁজ-এর উপস্থিতি।

● প্রস্রাব করার সময় কষ্ট হওয়া। ফোঁটা ফোঁটা করে প্রস্রাব হওয়া।

● পা আর কোমরের যন্ত্রণা।

● মাংসপেশীতে খিঁচুনি হওয়া

● সবসময় শীত বোধ হওয়া

উপরিউক্ত লক্ষণগুলির মধ্যে কোনও একটি লক্ষণের উপস্থিতি থাকলে কিডনীর রোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে ।

কিডনীর পরীক্ষা কাদের করানোর দরকার? কিডনীর রোগের সম্ভাবনা অধিক কখন ?

১. যে ব্যক্তির কিডনীর রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

২. ডায়াবেটিস (মধুমেহ) রোগাক্রান্ত ব্যক্তি।

৩. উচ্চ-রক্তচাপযুক্ত ব্যক্তি  (High Blood Pressure)

৪. পরিবারে বংশানুগতিক কিডনী রোগের ইতিহাস।

৫. অনেক দিন ধরে ব্যাথানাশক (Pain Killer Tablets) ঔষধের সেবন।

৬. রেচনতন্ত্রে জন্মগত রোগ ,

৭. প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির বৎসরে ১বার নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার।

৮. যে পরিবারে কেহ যদি কিডনী রোগে (CKD) আক্রান্ত হয়েছেন, সে পরিবারে অন্যরাও ঝূকিতে থাকেন।

৯. কেহ যদি পূর্ববর্তীতে আকস্মিক কিডনী বিকলতা বা Acute Kidney failure  রোগে ভুগেছেন তিনিও ভবিষ্যতে কিডনী রোগের ঝুঁকিতে থাকেন।

কিডনীর রোগের নির্ণয়ের জন্য আবশ্যক পরীক্ষাগুলি হলো :

প্রস্রাবের পরীক্ষা : কিডনী রোগের নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রস্রাব পরীক্ষা অতি প্রয়োজনীয়। প্রস্রাবে পুঁজের (Pus) উপস্থিতি মূত্রনালীতে সংক্রমণের নিদর্শক। প্রস্রাবের প্রোটিন বা রক্তকণিকার উপস্থিতি গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস(Glomeru Lonephritis) এর নিদর্শক। মাইক্রোঅ্যালবুমিনেমিয়া প্রস্রাবের এই পরীক্ষাটি ডায়াবেটিসের কারণে কিডনী আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে তাই সর্ব প্রথম এবং সব থেকে তাড়াতাড়ি এটি নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি।

প্রস্রাবের অন্য পরীক্ষাগুলি হল :

(১) প্রস্রাবে টি.বি.র জীবাণুর পরীক্ষা টি.বি. নির্ণয়ের জন্য।

(২) ২৪ ঘণ্টার মূত্রে প্রোটিনের মাত্রা (কিডনীর ফোলাভাব আর তার চিকিৎসার প্রভাব জানার জন্য)

(৩) প্রস্রাব কালচার আর সেনসিটিভিটি পরীক্ষা (প্রস্রাব সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া বিষয়ে জানতে আর তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধের ব্যাপারে জানতে)

রক্তের পরীক্ষা নিরীক্ষা :

১. রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি (অ্যানিমিয়া) কিডনি ফেল হবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

২. রক্তে ক্রিয়েটিনিন এবং ইউরিয়ার মাত্রা এই পরীক্ষা কিডনীর কার্যদক্ষতার পরীক্ষা। ক্রিয়েটিনিন আর ইউরিয়া হল শরীরের অনাবশ্যক বর্জ্য পদার্থ, কিডনীর দ্বারা শরীরের বাইরে নিষ্কাশিত হওয়া। শরীরের ক্রিয়েটিনিন এর সাধারণ মাত্রা ০.৬ থেকে ১.৪ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার আর ইউরিয়ার সাধারণ মাত্রা ২০

থেকে ৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার। কিডনী বিকল হলে দু’টিরই মাত্রা বাড়ে। এই পরীক্ষাটিও কিডনি রোগের নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তের অন্যান্য পরীক্ষা :

কিডনির বিভিন্ন রোগের নির্ণয়ের জন্য রক্তের অন্যান্য পরীক্ষাগুলি হল কোলেস্টেরল, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম, ফসফেট ইত্যাদি। কিডনির সোনোগ্রাফি, ক্ষেএ বিশেষ কিডনি বায়োপসিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই।

Chronic Kidney Disease (CKD)/ দীর্ঘমেয়াদী কিডনী রোগ:

পাঁচটি ধাপে কিডনী বিকলের দিকে অগ্রসর হয়। প্রথম চারটি ধাপ পর্যন্ত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় অথবা যে গতিতে কিডনী ক্ষয় হচ্ছে তা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু একবার পাঁচ নম্বর ধাপে চলে গেলে তখন বেঁচে থাকার উপায় হলো ডায়ালাইসিস অথবা কৃত্রিম কিডনি সংযোজন/ (Kidney Transplant) । এসব পদ্ধতি এতটাই ব্যয়বহুল, আমাদের দেশের শতকরা ১০ ভাগ লোকের পক্ষে এ ধরণের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই এই ঘাতক ব্যাধি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো কিডনী বিকলতা প্রতিরোধ করা। জেনে রাখা ভালো একজন ব্যক্তির ৫০% কিডনী কাজ না করলেই

রক্তের ক্রিয়েটিনিন বাড়ে, অন্যদিকে ৮০% অকেজো হওয়ার পর রোগের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং CKD এর ভয়াবহতা যে কত মারাত্মক তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ কোন না কোনভাবে কিডনীজনিত রোগে আক্রান্ত। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, প্রায় ৫০ লাখ শিশুই নানাবিধ কিডনী সংক্রান্ত রোগে ভুগছে। প্রতি বছর প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক দ্রুতগতিতে কিডনী বিকলতায় মারা যায়। সারা বিশ্বে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বেঁচে যাচ্ছে ডায়ালাইসিস এবং কিডনী প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে।

● মনে রাখবেন, CKD রোগ হলে তা ধীর গতিতে এগুবে। কখনোই সম্পূর্ন ভালো হয়ে যাবে না। চিকিৎসার মাধ্যমে শুধুমাত্র রোগের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করা যেতে পারে। এক পর্যায়ে কারো কারো ডায়ালাইসিস বা কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট এর প্রয়োজন হবে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে উপরের নিয়ম মেনে চলা ও নিয়মিত ঔষধ সেবন করা, মাঝে মাঝে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ঔষধ এডজাস্ট করে চললে ভাল থাকা সম্ভব।

● সময়মত (CKD stage ৪ এর শেষ ভাগে বা CKD stage ৫ এর প্রথম দিকে) হেমোডায়ালাইসিস এর প্রস্তুতি অপারেশন “ফিস্টুলা” করানো প্রয়োজন। এটি সাধারনতঃ বাম হাতে করা হয়ে থাকে, তাই সে সময় বাম হাতে ইনজেকশান /রক্ত দেওয়া বা নেওয়া ঠিক নয়। একইসাথে ফিস্টুলা করার পূর্বে রোগীর রক্তনালীর এবং হার্টের অবস্থা জেনে নিতে হবে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীর, কারন ফিস্টুলা করার পরে হার্টের অবস্থা খারাপ হতে পারে বা ফিস্টুলা নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমনকি শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

● এ ধরণের রোগীদের CAPD /পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস করাই শ্রেয়। এটা রোগীর জন্য আরো অনেক সুবিধাজনক।

● সবচেয়ে ভালো হলো কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট/প্রতিস্থাপন করা। মনে রাখবেন, এতে রোগীর জীবন যাপনের মান অনেক ভাল থাকে এবং গড় খরচও কম। আমাদের দেশে বহু আগে থেকেই আর্ন্তজাতিক মানের কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট/প্রতিস্থাপন হয়ে থাকে। তবে নিকট আত্মীয়ের যেমন রোগীর বাবা,মা,ভাই, বোন, প্রাপ্ত

বয়স্ক সন্তান, আপন মামা ,চাচা,খালা,ফুফু বা স্বামী,স্ত্রীরাই কেবল কিডনী দান করতে পারেন। তাছাড়া আই

সি ইউ-তে ব্রেইন ডেথ ঘোষনাকৃত মৃত ব্যাক্তিরাও কিডনী দাতা হতে পারেন। এক্ষেত্রে মৃত ব্যাক্তি আগে

থেকেই উইল করে যেতে পারেন অথবা মারা যাবার পর নিকটতম লোকজন অনুমতি দিতে পারেন। এতে

আইনগত/ধর্মীয় বাধা নেই।

কিডনী রোগ প্রতিরোধে কিছু পরামর্শ

● ধূমপান ,অতিরিক্ত মদ্যপান ও নেশা জাতীয় দ্রব্যাদি গ্রহন করবেন না।

● ব্যথা নাশক বড়ি, এন্টিবায়োটিক, হারবাল, হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হবেন।

● সময়মত হেপাটাইটিস-বি, নিউমোনিয়া,ইনফ্লুয়েন্জাএর টিকা দিবেন।

● শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, ডিহাইড্রেশন, পুড়ে যাওয়া, খোঁসপাঁচড়া, টনসিলের প্রদাহ, রক্তক্ষরন থেকে আকস্মিক কিডনী বিকল হতে পারে। তাই দ্রুত এগুলোর চিকিৎসা করবেন।

● প্রসাবের প্রদাহ/ইনফেকশনের দ্রুত চিকিৎসা করুন। প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি/তরল পান করুন। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া এর বেশি পানি/তরল পান করার প্রয়োজন নেই।

● উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কারন এ দুটি রোগের অন্যতম প্রধান টার্গেট কিডনী। ৬-১২ মাস পর পর প্রস্রাবের অ্যালবুমিন ও রক্তের ক্রিয়েটিনিন টেস্ট করুন-বিশেষ করে যে পরিবারে অন্য কেহ কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মনে রাখবেন, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন নির্গত হলে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। কারন এতে ধীরে ধীরে কিডনী ক্ষতিগ্রস্থ বা CKD রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশী। তবে প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় হলে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ কিছু কিছু ঔষধ প্রয়োগ করে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

● প্রস্রাবের রাস্তায় বাধা গ্রস্থতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা করবেন-পুরুষদের প্রোস্টেট, মহিলাদের জরায়ুর

সমস্যার কারনে এটি হতে পারে।

● নিয়মিত ৩০ মিনিট দ্রুত হাটবেন। অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন। ওবেসিটি বা স্থূলতা পরিহার করুন কারণ এতে কিডনী রোগেরও ঝুঁকি বাড়ে।

● গর্ভ/প্রসবকালীন কিডনী জটিলতায় কেউ কেউ আক্রান্ত হতে পারেন, এতে মৃত্যুর/ঈকউ হওয়ার

ঝুঁকি অনেক বেশি, তাই আগে থেকেই প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞের পরামর্শে থাকা আবশ্যক।

● দূর্ঘটনা জনিত রক্তক্ষরনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন, এতে কিডনী আকস্মিক ভাবে বিকল হতে পারে।

● কিডনীর পাথুরে রোগ একবার হলে কয়েক বৎসর পর কারো কারো এটি আবারো হতে পারে, এতে বার

বার ইউরিন ইনফেকশন এমনকি ঈকউ রোগও হতে পারে। তাই কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই লিটার পানি/তরল পান করা, এনিমেল প্রোটিন , লবন ,ক্যালসিয়াম, কিছু কিছু এন্টাসিড,ভিটামিন ডি ও সি বেশি না খাওয়া, ইউরিন ইনফেকশন এর যথাযথ চিকিৎসা করা, বেশি বেশি টক ফল, গাজর, পালং শাক, কলিজা, মগজ, মাছের ডিম, চকোলেট না খাওয়া,- কিডনীর পাথুরে রোগ প্রতিরোধের সহায়ক।

● মনে রাখবেন, যে সকল টেস্ট করানোর জন্য ডাই/ফুব বা রং দিতে হয় , যেমন আই ভি ইউ, এনজিওগ্রাম- এতে সাময়িকভাবে কিডনী আক্রান্ত হতে পারে। কেহ যদি কিডনীর জন্মগত রোগ বা

ত্রুটিতে ভুগেন, তিনি যে কোন সময় কিডনীর কোন না কোন উপসর্গে ভুগতে পারেন। যদি কোন পরিবারে কেহ কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, সে পরিবারের অন্য সদস্যরাও কিডনী রোগের ঝুঁকিতে থাকেন। অথবা কেহ যদি আকস্মিক কিডনী বিকলতা (AKI) রোগে আক্রান্ত হন, তিনি পরবর্তীতেও কিডনী রোগের ঝুঁকিতে থাকেন। তবে এ বিষয়গুলোতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই, বরং সচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

● যাই হোক, কিডনী বিকল রোগীরা আতঙ্কিত না হয়ে বা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে না পড়ে সময় মত আস্থার সাথে চিকিৎসা করলে এবং প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে চললে অনেক ক্ষেত্রেই ভাল থাকা সম্ভব হতে পারে। সুনির্দিষ্ট কিছু কিছু ক্ষেত্র ছাড়া এ রোগের চিকিৎসা এ দেশেই সম্ভব, তাই শুধু শুধু বিদেশে গিয়ে অর্থ খরচ করা বা দেশের সম্মানকে

প্রশ্নবিদ্ধ না করাই শ্রেয়।