কলা

সংবাদ প্রতিনিধি ০৩:০১ মিঃ, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ Views : 807

মানবদেহে প্রধানত কলা ৪ প্রকার। যথা:-

       ১.   আবরণী কলা

       ২.   যোজক কলা

       ৩.   পেশি কলা

       ৪.   স্নায়ু কলা  

আবরণী কলার বৈশিষ্ট্য

  • এটি অন্তঃত্বক ও বহিঃত্বক গঠন করে
  • এটি একটি ঝিল্লির উপর অবস্থিত, এ ঝিল্লিকে বেসমেন্ট মেমব্রেন বলে
  • এটি ভ্রুণীয় তিনটি স্তর থেকেই তৈরী হয়
  • এ কলায় আন্তঃকোষীয় পদার্থ খুব কম
  • এতে সরাসরি রক্ত সরবরাহ থাকে না। এটি এর সাথে সংশ্লিষ্ট যোজক কলা থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পুষ্টি সংগ্রহ করে
  • এতে সংবেদী স্নায়ুপ্রান্ত থাকলেও মোটর / সঞ্চালক স্নায়ু সংযোগ থাকে না।

উদাহরণ

  • আমাদের ত্বকের বহিরাবরণ আবরণী কলা দ্বারা গঠিত
  • শ্বসনতন্ত্র বা পরিপাকতন্ত্রসহ সকল অভ্যন্তরীণ আবরণও আবরণী কলা দ্বারা গঠিত


যোজক কলার বৈশিষ্ট

  • আমাদের দেহের গঠন ও সুরক্ষা যোজক কলার কাজ
  • কোষ, তন্তু ও আন্তঃকোষীয় পদার্থ নিয়ে গঠিত
  • এটি মেসেনকাইম থেকে উৎপন্ন
  • আন্তঃকোষীয় পদার্থ অনেক বেশি
  • এতে রক্ত ও স্নায়ু সরবরাহ বিদ্যমান
  • বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ ও পুষ্টি স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে

উদাহরণ

  • রক্ত
  • অস্থি,তরুণাস্থি, লিগামেন্ট, টেন্ডন ইত্যাদি যোজক কলার অন্তর্গত

পেশি কলা

     পেশি কলা ৩ ধরনের হতে পারে। যেমন:-

       ১.    ঐচ্ছিক পেশি

       ২.   অনৈচ্ছিক পেশি

       ৩.   হৃদপেশি

ঐচ্ছিক পেশি: 

  • পেশিকোষ লম্বা সিলিন্ডারের ন্যায়
  • বহু নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট যা কোষের পরিধির দিকে অবস্থিত
  • কোষে কোন শাখা নেই

অনৈচ্ছিক পেশি:

  • মাকু আকৃতির কোষবিশিষ্ট
  • কোষে একটি নিউক্লিয়াস থাকে যা কোষের কেন্দ্রে অবস্থিত
  • এতেও কোন শাখা থাকে না
  • রক্তনালী এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গ; যেমন- পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র ইত্যাদিতে এ পেশি পাওয়া যায়

হৃদ পেশি:

  • এটি এক প্রকার বিশেষ ঐচ্ছিক পেশি
  • কোষে একটি নিউক্লিয়াস থাকে, কেন্দ্রের দিকে 
  • কোষে শাখা দেখা যায়
  • ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক দেখা যায়
  • এটি কার্যকারিতার দিক দিয়ে অনৈচ্ছিক পেশি; অর্থাৎ, নিজ ইচ্ছায় এর নড়ন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
  • শুধু হৃদপিন্ডে হৃদপেশি দেখা যায়


স্নায়ু কলা

     স্নায়ুকলা যে সকল উপাদান নিয়ে গঠিত তা হল-

               ১.   নিউরিন

                         এটি স্নায়ুকলার গঠনগত ও কার্যকর একক।

              ২.   সাহায্যকারী কোষসমূহ (নিউরোগ্লিয়া)

  • অ্যাসস্ট্রোসাইট
  • ওলিগোডেনড্রোসাইট
  • এপেনডাইমাল কোষ
  • মাইক্রোগ্লিয়া


উদাহরণ: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকান্ড স্নায়ুকলা দিয়ে গঠিত।