×

দাঁতের মাড়ি সরে যাওয়ার কারণ ও তার প্রতিকার

সংবাদ প্রতিনিধি ০১:০৯ মিঃ, জুন ২৩, ২০১৯ Views : 1743

দাঁতের মাড়ি দূরে সরে যাওয়া মাড়ির রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। দাঁতকে ঘিরে মাড়ির যে টিস্যু থাকে তা ক্রমশ দূরে সরে যায় ফলে দাঁতের অনেক বেশি অংশ দেখা যায় । এমনকি দাঁতের মূল বা গোড়া পর্যন্ত দেখা যায়। এর ফলে মাড়িতে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে পড়ে এবং টিস্যু বা কলার ক্ষতি করা শুরু করে। এতে ব্যথা ও তীব্র সংবেদনশীলতা তৈরি হয় ।

দাঁতের মাড়ি দূরে সরে যাওয়ার কারন

•             মাড়ির অসুখ, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ যা মাড়ির টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ।

•             মুখের স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে না মানা অর্থাৎ ঠিকভাবে দাঁতব্রাশ না করা, ফ্লস ব্যবহার নাকরা, দাঁতে প্লাক জমা ইত্যাদি। এই প্লাক দীর্ঘদিন যাবত জমতে পাথর সৃষ্টি হয় । এই পাথর শক্ত এবং এর কারণেও দাঁতের মাড়ি দূরে সরে যেতে পারে।

•             খুব বেশি জোর দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যায় এবং মাড়িও অপসৃত হতে শুরু করে।

•             বংশগত কারণেও দাঁতের মাড়ি দূরে সরে যাওয়ার সমস্যাটি হতে পারে ।

•             হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও দাঁতের মাড়ি দূরে সরে যাওয়ার সমস্যাটি হয়, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে হয়। হরমোনের পরিবর্তনের ফলে মাড়ি অনেক সংবেদনশীল ও অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

•যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের দাঁতে প্লাগ জমে যা মাড়ি দূরে সরে যাওয়ার সমস্যাটি তৈরী করে ।

•কিছু খাওয়ার সময় দাঁতে খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করলে মাড়ি দূরে সরে যেতে পারে এবং সাধারণত যাদের বাঁকা দাঁত তাদের এই সমস্যাটি হতে পারে যেহেতু কামড় দেয়ার সময় সব দাঁত একসাথে কাজ করতে পারেনা।

•ঠোঁট বা জিহবা দিয়ে চাপ প্রয়োগের ফলেও মাড়ি দূরে সরে যেতে পারে।

•অনেকেরই দাঁত দিয়ে নখ কাটার ও কলম বা পেন্সিল কামড়ানোর অভ্যাস থাকে। এই বদভ্যাসের কারণেও মাড়ি সরে যেতে পারে ।

প্রতিকার

দাঁতের মাড়ি দূরে সরে যাওয়ার সমস্যাটি দেখা দিলে দন্ত চিকিৎসক স্কেলিং ও রুট প্ল্যানিং এর মাধ্যমে দাঁত পরিস্কার করবেন, দাঁতের প্লাক ও টারটার বের করবেন। যদি সমস্যাটি সনাক্ত করতে দেরি হয়ে যায় তাহলে দন্ত চিকিৎসক সার্জারির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মাড়ি ঠিক করবেন । আপনি যদি সার্জারি পর্যন্ত যেতে না চান তাহলে ঘরোয়াভাবেও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে মাড়ির দূরে সরে যাওয়ার সমস্যাটি কমাতে পারেন । কিন্তু যদি মাড়ির মধ্যে সংক্রমন হয়েই যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপ্তি ও ক্ষতির পরিমান যেনে চিকিৎসা গ্রহন করতে হবে । এছাড়া মাড়ির ক্ষয়রোধে মূখের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা ভালো ।

দাঁতের মাড়ি নরম কলা দিয়ে গঠিত বা দাঁতেরহাড়কে সুরক্ষিত রাখে ও সঠিকস্থানে থাকার জন্য সহযোগিতা করে । দাঁতের সঠিক পরিচর্যা , পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ ও ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে মাড়ির টিস্যুর পুনরায় বৃদ্ধি সম্ভব। তাহলে সেই ঘরোয়া প্রতিকারগুলো সম্পর্কে জেনে নেইঃ-

•             গ্রিন টি

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ গ্রিন টি স্বাস্থ্যের জন্য স্পর্শমণিহিসেবে কাজ করে । অন্যান্য বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার মত দাঁতের মাড়ির সমস্যাটির প্রতিকারেও গ্রিন টি চমৎকার কাজ করে । গ্রিন টি মাড়ির প্রদাহ কমায় ও মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে । সকালের এক কাপ গ্রিন টি দাঁত ও মাড়ি শক্ত করে ।

•             তিলের তেল

তিলের তেল দাঁতে প্লাক জমতে বাধা প্রদান করে ও দাঁতের ছিদ্রের ভেতর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় । প্লাক ও বিষাক্ত উপাদান মাড়ির ক্ষয়সৃষ্টির জন্য দায়ী । এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ তিলের তেল মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করুন । দাঁতব্রাশ করার ৩০ সেকেন্ড পূর্বে তিলের তেল মুখে নিয়ে দাঁতে ভালো করে লাগান । দাঁতক্ষয় ও মাড়িক্ষয় রোধে তিলের তেল কিছুটা গরম করে ব্যবহার করলে ভালো ।

•             অ্যালোভেরা

অ্যন্টি-ইনফ্লামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় মাড়ির ক্ষতি ও সংক্রমন নিরাময়ে সাহায্য করে অ্যালোভেরা । অ্যালোভেরার পাতা থেকে অ্রালোভেরা জেল নিয়ে দাঁতব্রাশ করুন। প্রতিদিন সকালে ও খাওয়ার পরে অ্যালোবেরা জেল মাউথওয়াশের মতোই ব্যবহার করতে পারেন । এতে আপনার দাঁত ও মাড়ির ক্ষয়রোধ হবে এবং মাড়ির সরে যাওয়া বন্ধ হবে ।

•             লবঙ্গ

ক্ষয়প্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত দাঁত এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকারিতার দিক দিয়ে লবঙ্গ প্রশংসার দাবিদার। লবঙ্গের তেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক , ব্যাকটেরিয়ানাশক ও ছত্রাকনাশক এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর মেরামত ও নতুন কোষ সৃষ্টিতে সাহায্য করে । লবঙ্গের শক্তিশালী জীবাণুনাশক ক্ষমতা, আছে তাই ঘন ঘন লবঙ্গ ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বন্ধ হয়। ভালো ফল পাওয়ার জন্য দাঁতে প্রতিদিন একটি লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল মালিশ করুন ।

কিছু টিপস

•             খুব জোরে জোরে ব্রাশ করা ঠিক নয়।

•             হালকাভাবে চাপ দিয়ে ও বৃত্তাকারে দাঁতব্রাশ করুন ।

•             কখনো মাড়ির দিকে চেপে দাঁতব্রাশ করবেন না । মাড়ি বরাবর ব্রাশ করুন ।

•             অনেক বড় টুথব্রাশ ব্যবহার না করাই ভালো । ছোট ও নরম ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ ব্যাবহার করা ভালো ।

•             ফ্লস দিয়ে দাঁত পরিস্কার করতে ভুলবেন না ।

•             প্রতিবার খাওয়ার পরে কুলকুচি করে নেয়া ভালো ।

•             পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করলে মুখ পরিস্কার থাকে ও বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

•             নারকেল তেল, অলিভ অয়েল ও লেবুর রসে মিশ্রণ দাঁতের মাড়ির সমস্যায় কার্যকর ভূমিকা রাখে

•             পুষ্টিকর খাদ্য, বিশেষ করে ভিটামিন-সি ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহন দাঁতের রোগ নিরাময় ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে ।