বেশি শোষণ ক্ষমতাযুক্ত প্যাড থেকে জরায়ুর ক্যান্সার !

সংবাদ প্রতিনিধি ০৪:২৬ মিঃ, মে ৬, ২০১৮ Views : 528

প্রত্যেক নারীর শরীর প্রকৃতির নিয়ম মেনে প্রত্যেক মাসের বিশেষ কয়েকটা দিন ঋতুচক্র পার করেন। এই সময়ে
নারীদের সবচেয়ে জরুরী ব্যবহার্য জিনিসটি হচ্ছে স্যানিটারি ন্যাপকিন। এই পণ্যটি নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, এটা খুবই সাধারণ একটি পণ্য। কিন্তু আমাদের দেশের নারীরা বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে চান।

অসংখ্য নারী নানান রকম ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে থাকেন শুধুমাত্র এই স্যানিটারি ন্যাপকিনের সম্পর্কে কোনও ধারনা না থাকার কারণে। খুব ভালো পণ্য ভেবে অনেক দাম দিয়ে এমন ন্যাপকিন ব্যবহার করেন, যা তাঁকে ফেলে দেয় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। অনেকেই ভাবেন অনেক বেশি শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন, বেশি সময় লিকেজ প্রতিরোধ করে এমন প্যাড ব্যবহার করেন? জেনে নিন, এই ন্যাপকিন হতে পারেন আপনার ক্যান্সারের কারণ! লজ্জা নয়, সচেতনতা জরুরী। এই ব্যাপারে কিছু বিষয় তুলে ধরা হল-

১. স্যানিটারি ন্যাপকিন কতক্ষণ পর পর পরিবর্তন করা ভালো? এই তথ্যটি অনেকেই জানেন না। অনেকেই আছেন যারা একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কম ব্লিডিং হয়েছে ভেবে দীর্ঘসময় ধরে ব্যবহার করেন। রক্তপাত কম হোক বা বেশী, একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কখনোই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করবেন না। তিন থেকে চার ঘণ্টা পর পর বদলে ফেলুন। যদি রক্তপাত বেশি হয়, তাহলে প্যাড নষ্ট হওয়া মাত্রই বদলে ফেলুন। জমে থাকা রক্তে নানান রকম জীবাণু সংক্রমণ করে আপনি আক্রান্ত হবেন যৌনাঙ্গের নানান রকম অসুখে ও ফাঙ্গাস ইনফেকশনে।

২. প্রত্যেকবার স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলের সময় নিজেকে ভালোভাবে পরিছন্ন করে নিন। উষ্ণ জলের সঙ্গে জীবাণুনাশক সাবান বা বডি ওয়াশ দিয়ে নিজেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। তারপর স্থানটি জীবানুনাশক কোন লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ও মুছে নিয়ে তবেই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করুন।

৩. প্রত্যেকবার স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিবর্তনের সময় পরনের প্যানটিও বদলে ফেলবেন। এটা জরুরী। নাহলে এত কষ্ট করে পরিষ্কার হওয়ার কোন মানে নেই।

৪. চেষ্টা করবেন অধিক শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন প্যাড ব্যবহার না করতে। এই ধরনের প্যাডে ব্যবহার করা হয় সিনথেটিক উপাদান এবং শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয় ডায়অক্সিন, রেয়নের মত ক্ষতিকর রাসায়নিক। যত বেশী শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন, এসব উপাদানের পরিমাণ ততই বেশী। আর এই সব উপাদান দায়ী জরায়ুর ক্যান্সার হতে শুরু করে সন্তান না হওয়া পর্যন্ত নানা রকম ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য।

৫. কৃত্রিম সুগন্ধীযুক্ত প্যাড দেখে আকৃষ্ট হয়ে কিনে ফেলবেন না। চটকদার বিজ্ঞাপনেও ভুলবেন না। এই উপাদানগুলো আপনার গোপন অঙ্গে কালো দাগ ও এলার্জি তৈরী করতে পারে।

৬. প্যাড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিক শোষণ ক্ষমতার দিকে না গিয়ে নরম তুলো বা সুতি কাপড়ের তৈরি অরগানিক প্যাড কিনুন। বিজ্ঞাপনে একটি পণ্যকে ভালো বললেই সেটা ভালো হয়ে যায় না।

৭. রক্তপাতের পরিমাণ কম থাকলে এবং আপনি যখন বাড়িতে আছে, তখন চেষ্টা করুন প্যাড ছাড়াই থাকতে। ২৪ ঘণ্টা এক টানা প্যাড পরিধান থেকে গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ তো হবেই, সেই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াল ও ফাঙ্গাস ইনফেকশনও হবে।