স্বাস্থ্যপরিচর্যার গুরুত্ব

সংবাদ প্রতিনিধি ১২:৫৫ মিঃ, জানুয়ারি ২০, ২০১৯ Views : 443

১.   শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

২.   অসুস্থ হলে ঔষধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি কিনতে হয় ফলে প্রচুর অর্থ খরচ হয়। স্বাস্থ্য পরিচর্যার মাধ্যমে তা কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব।

৩.   বিভিন্ন ঔষধের কোন না কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে তা এড়ানো সম্ভব।

৪.   এন্টিবায়োটিক একটি অত্যন্ত জরুরী ও জীবনরক্ষাকারী ঔষধ। বর্তমানে এর যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে এর কার্যক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। একইসাথে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু সংক্রমণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যপরিচর্যার মাধ্যমে এসকল সমস্যাও কাটিয়ে তোলা সম্ভব।

৫.   স্বাস্থ্যপরিচর্যার অভাবে ধীরে ধীরে আমাদের দেহ ও মন দূর্বল হয়ে পড়ে। নানা রোগ দেখা দেয়। প্রথমদিকে এর প্রভাব না থাকলেও পরবর্তীতে এ সকল রোগ মারাত্নক ক্ষতি সাধন করে। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জীবন-পদ্ধতির দ্বারা এ ধরনের অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

৬.   অভিভাবক সচেতন হলে ভবিষ্যতে সন্তানের অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

৭.   স্বাস্থ্যপরিচর্যার জন্য কার্যত অর্থের ব্যয় খুবই কম। অন্যদিকে অসুস্থ হলে রোগনির্ণয় এবং প্রতিকারের জন্য যে বিপুল অর্থের হয় তার সামান্য অংশ স্বাস্থ্যপরিচর্যায় ব্যয় করা হলে তা রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

৮.   প্রত্যেক পরিবার যদি স্বাস্থ্য পরিচর্যার গুরুত্ব অনুধাবন করে তাদের জীবনে এর প্রয়োগ করতে সক্ষম হয় তবে পরিবার, সমাজ এবং পুরো জাতি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে।

৯.   বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী অসুখে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত কী নিদারূণ যন্ত্রণার শিকার হচ্ছে মানুষ! হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান মানবসম্পদ। একটি পরিবারের উপর অভিশাপ নেমে আসে যখন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু স্বাস্থ্যপরিচর্যার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই অধিকাংশ  দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১০.  একজন অসুস্থ ব্যক্তি পরিবার ও সমাজে বোঝাস্বরূপ। দারিদ্রপীড়িত কোন পরিবারে অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসাও অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বাস্থ্যপরিচর্যার সাধারণ জ্ঞানটুকু বিস্তৃত করতে পারলে এ জাতীয় অমানবিকতা এড়ানো সম্ভব।

১১. সর্বোপরি স্বাস্থ্যপরিচর্যাকে ছড়িয়ে দিয়ে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে কোন রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ প্রশমিত করা সম্ভব।

১২. স্বাস্থ্যপরিচর্যার মাধ্যমে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানোর পাশাপাশি রোগীর সেবার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব।

১৩.  অসুস্থতার ফলে মানুষের শিক্ষা, উপার্জন ইত্যাদি ছাড়ৃাও জীবনের সব ক্ষেত্রেই কোন না কোন প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়।

১৪.  অভিভাবক অসুস্থ হলে সন্তানের মানসিক শারীরিক উন্নয়ন  বাধাগ্রস্ত হয় বিশেষত যদি মা অথবা বাবা দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতায় আক্রান্ত হন।

১৫.  স্বাস্থ্যপরিচর্যার ‍বিষয়ে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে বিভিন্ন অসুস্থতায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর ভিড় দেখা যায়। এতে রোগীর সেবা প্রাপ্তিও পর্যাপ্ত হয় না ফলে রোগ প্রতিকার সম্ভব হয় না। হারিয়ে যায় অনেক মূল্যবান জীবন।

 

পরিশেষে বলা যায়, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত অর্থের কিছুটা স্বাস্থ্যপরিচর্যায় ব্যয় করা হলে স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও রোগ প্রতিকারের জন্য বরাদ্দ অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব এবং একই সাথে মানুষের সময়, জীবন ও অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। মানবসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে এবং অর্থ অপচয় রোধ করে সমগ্রজাতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।