আমরা সুস্বাস্থ্যের জন্য কত কিছু না করে থাকি । দেহের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের সুরক্ষার জন্যই নানান ধরনের কাজ করি । কিন্তু সবসময়ই দাঁতের সুরক্ষাকে একটু কমই গুরুত্ব দেই । এবং এর চাইতেও কম গুরুত্ব দিয়ে থাকি দাঁতের মাড়ির প্রতি । কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কি, দাঁতের মাড়ি সুরক্ষিত না থাকলে দাঁতের কি অবস্থা হয় ? এবং দাঁত যদি না থাকে তাহলে আপনি আপনার দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুরক্ষায় দেহের সুস্বাস্থ্যের জন্য খাবার কিভাবে খাবেন? সুতরাং সুস্বাস্থ্যের জন্য যাই করি না কেন দাঁতের মাড়ির দিকে আমাদের সবচাইতে প্রথমে নজর দিতে হবে । মাড়ি অসুস্থ মানেই দাঁত থেকে রক্ত পড়া , মুখে দুর্গন্ধ সহ দাঁতের নানান রোগের সুত্রপাত । সুন্দর ও সুস্থ দাঁতের জন্য সবচাইতে প্রয়োজনীয় হচ্ছে মাড়ির যত্ন নেয়া।
- দাঁতের মাড়ি ম্যাসাজ করুন
প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার সাথে সাথে দাঁতের মাড়ি ম্যাসাজ করন। ইউক্যালিপটাস কিংবা পুদিনা তেল দিয়ে করবেন এই ম্যাসাজ। এই তেলে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান যা মাড়ির ইনফেকশন রোধে কাজ করবে। প্রতিদিন ম্যাসাজ মাড়ির রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকবে। পরিস্কার আঙুলের মাথায় সামান্য তেল নিয়ে ঘুরিয়ে উপর ও নিচের মাড়ি ম্যাসাজ করুন প্রতিদিন।
- মুখের চোয়ালের ব্যায়াম করুন
মাড়ির সুরক্ষার মুখের চোয়ালের ব্যায়াম অতি জরুরী। প্রতিদিনই চোয়ালের ব্যায়াম করুন। মুখ খোলা ও বন্ধ করুন। মুখ খোলার সময় একটু কট করে সামান্য আওয়াজ পেলে ভয় পাবেন না। এটা সাধারণ ব্যাপার । এটি ২ মিনিট করুন প্রতিদিন। তাছাড়া আপনি সুগার ফ্রি চুইংগাম চিবোতে পারেন।
- মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন
আমরা অনেকেই মনে করি ব্রাশ করাটাই আমাদের দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। আসলে কিন্তু সেটা মোটেও ঠিক নয়। প্রতিদিন নিয়ম করে মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন। কারণ যত ভালো ব্রান্ডের টুথপেস্টস হোক না কেন বেশিক্ষণ মুখের সুরক্ষার কাজ করতে পারে না।মাউথওয়াশ সকল ব্যাকটেরিয়অ থেকে মুখের সুরক্ষা করে। ভালো কোনো মাউথওয়াশ প্রতিদিন ব্যবহার করুন ৬ ঘন্টা অন্তর অন্তর।
- জিহবা পরিস্কার রাখুন
আমরা দাঁত ব্রাশ করি প্রতিদিনিই কিন্তু জিহবা পরিস্কারের কথা ভুলে যাই। কোনো প্রকার গুরুত্ব দেই না। এটা অত্যন্ত ভুল একটি কাজ। প্রতিবার ব্রাশ করার সাথে সাথে জিহবা পরিস্কার করা অবশ্যই দরকার। কারণ অপরিস্কার জিহবার জন্য মাড়ির অনেক ক্ষতি হয়।
- চিনি কম খাবেন
চিনি দাঁত ও মাড়ির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। চিনি মুখে ব্যাকটেরিয়ার জম্ম দেয়। যা মাড়ির রক্তপড়া রোগের জন্য দায়ী। এবং এটাই পরবর্তীতে মাড়ির ইনফেকশন পরিণত হয়। সুতরাং, যতটা সম্ভব চিনি এড়িয়ে চলবেন।
- পান,সিগারেট ও তামাক এড়িয়ে চলুন
পান,সিগারেট,ও তামাক দাঁত ও মাড়ি উভয়ের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর। এরা মাদকের পর্যায়ে পড়ে। এই ধরণের মাদকদ্রব্য দাঁতের গোড়ায় ও মাড়িতে ইনফেকশনের সূচনা করে ও পরবর্তীতে মাড়ির ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। আজই পান, সিগারেট ও তামাককে না বলুন। নিয়মিত চেকআপ করান। দাঁতের বা মাড়ির সমস্যাকে আমরা অবহেলা করি। দাঁতের কিংবা মাড়ির ব্যথায় আমরা খুব কমই ডাক্তারের কাছে যাই। এটা অনেক বড় ভুল। মাড়ির সুরক্ষা সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরী। সামান্য ব্যখা অবহেলা করলে তা পরবর্তীতে অনেক মারাত্নক আকার ধারণ করতে পারে। সুতরাং নিয়মিত চেকআপ করান।



.jpg)
.jpg)

.jpg)






