অস্টিও আর্থ্রাইটিস বা গেটে বাতের ব্যথা কমানোর কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি

সংবাদ প্রতিনিধি ১১:২৮ মিঃ, মে ১৩, ২০১৯ Views : 453

               

একটি সাধারণ রোগে পরিণত হয়েছে অস্টিওআর্রাইটিস । তবে আগে কেবল বয়সকালেই এই রোগের দেখা মিলত । কিন্তু এখন বয়সকে গুরুত্ব না দিয়ে যে কোনও বয়সের মানুষই শিকার হচ্ছেন এই রোগের । কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই জাঁকিয়ে বসে এই ব্যথা । যার জেরে প্রায় পঙ্গু হয়ে যান বেশিরভাগ মানুষই । তবে শুধু ওষুধ খেলেই হবে না তার সঙ্গে বদলাতে হবে জীবনযাপনের পদ্ধতি :- 

  • ওজন কমান 

ওজন বেশি থাকলে অনেকসময় ব্যথার সূত্রপাত ঘটে । শরীরের ওজন বেশি থাকার ফলে শরীরের চাপ গিয়ে পড়ে হাঁটু এবং পায়ের পাতার ওপরে । ওজন কমিয়ে ফেললে ব্যথা কিছুটা হলেও উপশম করা যেতে পারে । 

  • যোগব্যায়ামের অভ্যাস 

ওজন কমানোর সঙ্গে যোগবেয়ামও করতে হবে । যোগব্যায়াম করার ফলে শরীরের রক্তচলাচল ঠিকঠাকভাবে হতে পারে । এছারা ওজন কমানোর ব্যায়ামও করা উচিত , যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁটা অথবা জলের মধ্যে কিছু অ্যারোবিকস করা ইত্যাদি । 

  • ঠান্ডা-গরম চিকিৎসা পদ্ধতি 

ঠান্ডা-গরম জল ব্যথার জায়গাতে দিলে ব্যথা কিছুটা উপশম করা যেতে পারে । যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠে গরম জলে স্নান করলে আরাম পাবেন । গরম জলে স্নানের ফলে আপনার শিরাগুলোতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে । এমনকি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হটপ্যাডের সেঁকও দিতে পারেন । এছাড়া ঠান্ডা কোন অয়েন্টমেন্ট লাগাতে পারেন । তাতেও কিছুটা আরাম পাবেন । 

  • আকুপাংচার 

আকুপাংচার হল একটি পুরনো পদ্ধতি । এই পদ্ধতির দ্বারা একটি সরু সূঁচ ব্যথার জায়গাতে ফোটানো হয় । যার মাধ্মে ব্যথার কিছুটা হলেও কমে যায়। আকুপাংচার করার সময় কোন দক্ষ মানুষের কাছ থেকে করানোই ভাল  । 

  • ফ্যাটি অ্যাসিডজাতীয় খাবার খাওয়া ভালো 

ওমেগা-৩ ফ্যাটিঅ্যাসিড যে সমস্ত খাবারে থাকে সেইধরনের খাবার খেলে ব্যথা কমতে পারে । ওমেগা-৩ জয়েন্টকে শক্ত হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে । 

  • ম্যাসাজ 

এই ব্যথাতে ম্যাসাজ খুবই উপকারী । ব্যথার জায়গাতে নিয়মিত বা সপ্তাহে তিন দিন ম্যাসাজ করলে ব্যথা কিছুটা হলেও কমে । ম্যাসাজ করার ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় । যার ফলে পেশি শিথিল হয়ে যেতে পারে না । তবে ভালো কোনও ম্যাসাজ পার্লারে গিয়ে দক্ষ ব্যক্তির কাছ থেকেই ম্যাসাজ করা ভালো । 

  • ওষুধ না খাওয়াই ভালো 

বাজারে এমন অনেক ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় যা খেলে ব্যথা কমার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে । কিন্তু ডাক্তারের সঙ্গে পরার্মশ না করে কখনোই কোন ওষুধ খাওয়া উচিত নয় । 

  • ধ্যান

      ধ্যান করার ফলে অনেক সময় ব্যথা কমতে পারে । ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ধ্যানের মাধ্যমে অনেক সময় ব্যথা উপশম করা সম্ভব হয় ।

ধ্যানের মাধ্যমে বিষণ্ণতাকে দূর করা সম্ভব হয় । যার ফলে মন যদি সতেজ –স্বাভাবিক থাকে তাহলে ব্যথা আর সেভাবে অনুভূত হয় না ।